পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় বিজিবি

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

ভারতের বিধানসভা নির্বাচন ও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। এ জন্য জোর করে তাদের জড়ো করা হচ্ছে সীমান্তলাগোয়া বিভিন্ন স্থানে। এরপর রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে তাদের এপারে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের এমন কর্মকা- ঠেকাতে সীমান্তগুলোয় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন কর্মকা-কে সাধুবাদ জানিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নওগাঁ : নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ নারী-পুরুষ ও শিশুকে গতকাল শুক্রবার ভোরে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৭নং পিলার এলাকার চকচকির বিল লোহার ব্রিজ এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে শিশুসহ ১০ নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন।

স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে সীমান্তের জিরো লাইনে নিয়ে যায়। তখন বিএসএফ এসে পুশব্যকে বাধা দেয়।

নওগাঁ ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ পুশইনের কথা অস্বীকার করেছে। বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুশইন করা ১৭ জন নো-ম্যান্সল্যান্ডেই থাকবে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পৃথকভাবে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কঠোর তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকা দিয়ে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত সংশ্লিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

দিনাজপুর : হিলিসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত দুই সপ্তাহে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। জনগণকে সতর্ক করতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। হিলির স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বিএসএফ যেভাবে পুশইনের চেষ্টা করছে, তা প্রতিহত করতে বিজিবির কঠোর মনোভাবই যথেষ্ট। বিজিবির অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, ‘সম্ভাব্য পুশইনের যেসব স্থান আমরা চিহ্নিত করেছি, সেসব স্থানে টহল তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।’

নেত্রকোনা : বিএসএফ কর্তৃক ভারতীয় নাগরিকদের ‘পুশইন’ চেষ্টার ঘটনায় নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধীনস্থ সব তল্লাশি চৌকিতে জনবল বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকটি সংবাদপত্রে ‘দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ’ মর্মে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ৩১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী। তিনি জানান, প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি যৌথ টহল। নেত্রকোনা সীমান্তে পুশইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত