স্ত্রীর প্রতি স্বামীর, বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের দায়িত্বহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে আবারও। পল্লবীর সেলিনা আফরোজের মৃত্যু সংবাদ জেনেও পরিবারের সদস্যদের কেউ নিজ থেকে যোগাযোগ করেননি। তার স্বামী ও সন্তান কানাডা থেকে কবে আসবেন, আদৌ আসবেন কি না জানাননি। অতঃপর সেলিনার মরদেহ দাফন হলো। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা কেউ ছিলেন না সে সময়। গত বুধবার পল্লবী এলাকায় জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থানে সেলিনা আফরোজকে দাফন করা হয়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের শেষে তার বড় ভাইয়ের ছেলের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মৃত সেলিনা আফরোজ পল্লবী থানার সেকশন-৬, ব্লক-সি, রোড নং-১০ এর ১২ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে একা বসবাস করতেন। গত ২৬ মে বিকেল ৩টার দিকে তার বোন আয়েশা রহমানের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে দুর্গন্ধের কারণে গত ৩ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ফ্ল্যাটের দুটি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে পড়ে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।
মৃতের স্বজনদের বরাদ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক আলি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৃত সেলিনা আফরোজ ১২ বছর আগে স্বামী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে কানাডায় বসবাস করতেন। সেখানে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি দেশে চলে আসেন। এরপর আর কানাডায় ফেরা হয়নি তার। সেলিনা আফরোজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। স্বামী মমিনুল হক ও সন্তানরা কানাডায় বসবাস করেন। সর্বশেষ গত ২৬ মে রাতে সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজা আশফাকুর রহমানের মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর আর কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো একসময় তিনি মারা যান।
মৃত সেলিনা আফরোজের ভাতিজা আশফাকুর রহমান জানান, সেলিনা আফরোজ অত্যন্ত কম কথা বলতেন। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হতেন না এবং কারও সঙ্গে তেমন যোগাযোগও রাখতেন না। অনেক সময় ইচ্ছা না হলে ফোনও ধরতেন না। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন। স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল সীমিত। প্রতিবেশীদের বাসায় খুব যাওয়া-আসা ছিল না তার।
