পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’এর আওতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গুলশান-২ চত্ত্বরে শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল ৯:৩০ টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পরিবেশ অধিদপ্তর ও গুলশান সোসাইটির সমন্বয়ে শব্দসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লূৎফর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ণ্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে যে, এটি শুধুমাত্র একটি পরিবেশগত দূষণই নয় বরং এই শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক। কাজেই এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহবান জানান। এক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশের সভাপতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লূৎফর রহমান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ণ্ত্রণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২০ সাল থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে অংশীজনদের (শিক্ষার্থী, পরিবহন চালক, ট্রাফিক পুলিশ, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী) নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টজনদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড টানানো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টিভিসি প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ণ্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা প্রদানের পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ব্যাপকভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এর সুফল নগরবাসী ধীরে ধীরে পেতে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা একটি ঘোষিত নীরব এলাকা, আজকে থেকে বিমানবন্দর এলাকায় শব্দদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে এবং আমরা সেখানে হর্ন বাজাতে দিবনা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা পরিবেশের নানান দূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিশেষ করে বলেন, শব্দদূষণ নগর জীবনের এক নতুন উপদ্রুপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শব্দদূষণের কারণে নগর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন। বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজন থেকে শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগর এর পরিচালক এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমদ এবং গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এবং গ্রীণ ভয়েস ও গ্রীণ সেভার্সের প্রতিনিধিগণ।
উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকগণসহ সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাগণ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিআরটিএ এর কর্মকর্তাবৃন্দ, গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিগণ, গ্রীণ সেভার্স এবং গ্রীণ ভয়েসের ভলান্টিয়ারগণ।
সমাবেশ শেষে গুলশান-২ চত্ত্বরের আশপাশের এলাকায় ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ডে সুজ্জিত হয়ে উপস্থিত সবাই রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী সকল গাড়ীর চালককে হর্ন না বাজানো থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান। একইসাথে ভলান্টিয়ারগণ গাড়ীতে স্টিকার সাটানো লিফলেট বিতরণ করেন।
