এনদ্রিক জাদুতে জয় পেলেও ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম

ক্লিভল্যান্ডের হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উত্তর খোঁজা। কার্লো আনচেলত্তির দল ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতলেও, মাঠের পারফরম্যান্স কোচের জন্য উত্তরের চেয়ে নতুন কিছু প্রশ্ন ও বড় দুশ্চিন্তা রেখে গেল।

তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুটা ব্রাজিলের জন্য ছিল দারুণ। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে মিশরের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে বল কেড়ে নেন ব্রুনো গিমারেস। এরপর নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।

ব্রাজিলের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিট। ১০ মিনিটে রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ তারকা মারকিনহোস গোলরক্ষক অ্যালিসনকে ব্যাক-পাস দিতে গিয়ে এক মারাত্মক ভুল করে বসেন। ফ্লেমিঙ্গো কিংবদন্তি জিকোর নামের প্রতিরূপ মিশরের ফরোয়ার্ড 'জিকো'  সেই বল কেড়ে নিয়ে আলিসনকে পরাস্ত করে মিশরকে ১-১ সমতায় ফেরান। এই গোলের পর ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে。

ম্যাচের ১৫ মিনিটে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে, যখন দলের এক নম্বর রাইট-ব্যাক ওয়েসলি গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। রোমার এই তারকা ডিফেন্ডার মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা বেঞ্চে থাকা সতীর্থদেরও আবেগপ্রবণ করে তোলে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে তার এই চোট সেলেসাও শিবিরে বড় অ্যালার্ম বাজিয়ে দিল। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন দানিলো। বর্তমানে ওয়েসলির চোটের গভীরতা জানতে মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করছে ম্যানেজমেন্ট।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ ২০ মিনিটে ব্রাজিল কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ২৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে ফাঁকায় থাকা ইগর থিয়াগোকে পাস না দিয়ে নিজেই দুর্বল শট নেন। এরপর রাফিনহার একটি জোরালো শট মিশরীয় গোলরক্ষক শুবায়ের চমৎকারভাবে রুখে দেন। ৪২ মিনিটে ইগর থিয়াগো গোলবক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন এবং ফিরতি বলে ভিনিসিয়ুসও গোল করতে পারেননি।

মারকুইনহোস, ডগলাস সান্তোস, লুকাস পাকেতা এবং ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় কেবল ডগলাস সান্তোস ছাড়া বাকি সবাইকে বিরতির সময়ই তুলে নেন আনচেলত্তি।

দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি দলে ব্যাপক পরিবর্তন এনে ওয়েভারটন, ব্রেমার, লিও পেরেইরা, ফ্যাবিলহো, দানিলো সান্তোস, লুইজ হেনরিখ, এনদ্রিক এবং মাথেউস কুনহাকে মাঠে নামান। অ্যালিসন, কাসেমিরো, গিমারেস, পাকেতা ও ভিনিসিয়ুসদের তুলে নেওয়ায় কেবল রাফিনহা, ডগলাস সান্তোস এবং আগে নামা দানিলোর ওপর ভরসা রাখেন কোচ।

এই পরিবর্তন দ্রুত ফল দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাফিনহা বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে দারুণ এক পাস বাড়িয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে থাকা তরুণ বিস্ময়বালিকা এনড্রিক প্রথম ছোঁয়াতেই বুলেট গতির শটে মিশরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্রাজিলের জয়সূচক গোল (২-১) এনে দেন। এটি জাতীয় দলের জার্সিতে এনড্রিকের চতুর্থ গোল, ২০২২ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের আর কোনো সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড এই কীর্তি গড়তে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ মাঠে নামলে গ্যালারিতে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হলেও তিনি ব্রাজিলের রক্ষণে তেমন কোনো ফাটল ধরাতে পারেননি। 

আগামী শনিবার (১৩ জুন) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের মূল পর্ব শুরু করবে সেলেসাওরা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত