কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামে গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
আটক যুবক খোকন মিয়ার বাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া মাস্টারপাড়া গ্রামে। তিনি ও তার প্রেমিকা উভয়েই নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রেমিকা জানান, প্রায় আট মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থতার কথা বলে খোকন মিয়া তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তিনি তাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন।
তিনি বলেন, ‘গত রাতে সে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। আমার কক্ষে থাকা অবস্থায় ভাই ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। পরে সে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। আমি তাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি বাঁচব না।’
অন্যদিকে আটক যুবক খোকন মিয়া বলেন, তাদের সম্পর্কের বয়স চার থেকে পাঁচ মাস। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ভালোবাসি। পরিবারের সম্মতি পেলে তাকে বিয়ে করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে পরিবারের অমতে এখনই বিয়ে করলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হবে। সামনে আমার এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তার ডাকে আমি রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক হয়নি এবং তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’
প্রেমিকার বাবা ও জ্যাঠা জানান, গভীর রাতে তাদের বাড়িতে আসায় স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবককে আটক করা হয়।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সহকারী শিক্ষক বজলুর রহমান জানান, মেয়েটির সঙ্গে যুবকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও তিনি কয়েকবার ওই এলাকায় এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মেয়ের পরিবার ও স্থানীয়রা ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিকেল পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যেহেতু তারা একে অপরকে ভালোবাসে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।’
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু জানান, রাত থেকেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এখনও প্রেমিক যুবক মেয়ের বাড়িতেই অবস্থান করছে। তারা দুজনই একে অপরকে ভালোবাসে। একটি মেয়ের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হলে তা সহজে ফিরে আসে না। তাই দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নিলে সুন্দর সমাধান সম্ভব।’
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ঘটনাটি নিয়ে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৩ জন নিহত, আহত ৪