কৃষি ও পল্লী অঞ্চলে দশ হাজার কোটি টাকার স্কিম ঘোষণা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে কৃষি ও পল্লী অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ বছর মেয়াদি আবর্তনযোগ্য এ তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ শীর্ষক এ উদ্যোগের আওতায় কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালাভুক্ত ব্যাংকগুলো অংশগ্রহণ চুক্তি সই করে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।

কৃষক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পর ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন পাবে। অন্যদিকে কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।

স্কিমের আওতায় শস্য-ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা এবং বিভিন্ন আয়বর্ধক পল্লী কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া যাবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য শুধুমাত্র ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী একজন গ্রাহক শস্য-ফসল খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, অন্যান্য পল্লী ঋণে ১৫ লাখ টাকা, কৃষিযন্ত্র খাতে ২০ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলগত জামানতের মতো বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

তবে কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। একই সঙ্গে পুরোনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য এ তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিনবার এ সুবিধা নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি ও পল্লী অঞ্চলে উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করাই এ স্কিমের মূল লক্ষ্য।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য সায়েমা হক বিদিশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু ঋণ বিতরণ নয়, প্রকৃত কৃষকের কাছে অর্থ পৌঁছানো এবং এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা থাকলে এ তহবিল গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত