সাক্ষাৎকারে মির্জা তারেক আহমেদ বেগ

পুলিশই জনগণের আস্থার জায়গা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

কেউ অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না, তবে উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব সেই চেষ্টাটাই করে যাচ্ছি। উত্তরা এলাকায় আগে অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ প্রশাসন নিয়ে অনেক ধরনের বিরূপ ধারণা রয়েছে, এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দিনশেষে পুলিশই জনগণের আস্থার জায়গা, আমরা সেই আস্থা অর্জনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বা ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ মুহূর্ত ও পরে পুলিশ বাহিনীকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিছু কর্মকা-ের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে পেশাদারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এতে সমাজে অন্যায়-অবিচার কমে আসবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, এই অঞ্চলের (উত্তরা বিভাগ) সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং থানাগুলোকে জনগণের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করাই প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে রেললাইন, আশপাশের এলাকা, বিআরটি ফ্লাইওভার এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই রোধে নিয়মিত প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট অভিযান চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গত দুই মাসে উত্তরা বিভাগে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫০৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২১৩ মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ছিনতাইয়ে জড়িত ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন থানার অভিযানে দক্ষিণখান এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার গার্মেন্টস পণ্য চুরিতে জড়িত চক্রকে গ্রেপ্তার, বিমানবন্দর হাজি ক্যাম্পে চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা পূর্ব থানার অভিযানে অপহৃত এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত