চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট স্টেশনের যাত্রা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চালু হয়েছে দেশের প্রথম ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ (স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার)।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক  উদ্বোধন করা হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এ সেন্টার উদ্বোধন করেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

এ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সামুদ্রিক গবেষণা, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং নীল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশের সক্ষমতা নতুন মাত্রা লাভ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। বঙ্গোপসাগর নিয়ে উচ্চমানের গবেষণা করতে নিজস্ব রিয়েল-টাইম ডাটা ও নমুনা এবং শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সমুদ্র থেকে সরাসরি ডাটা সংগ্রহ করতে এটি ব্যবহার করা হবে। এটি একটি এক্স (ফ্রিকোয়েন্সি পরিসর : প্রায় ৮-১২ এঐু) অ্যান্ড এল (ফ্রিকোয়েন্সি পরিসর : প্রায় ১-২ এঐু) ব্যান্ড স্যাটেলাইট ডাটা রিসেপশন সিস্টেম, যা বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ন্ত বিভিন্ন ওশান ও আবহাওয়া (আর্থ-অজারভেশন) স্যাটেলাইট থেকে ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম। প্রাপ্ত স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি চীনা স্যাটেলাইট। এর মধ্যে রয়েছে ডায়নামিক স্যাটেলাইট : এইচওয়াই২ বি, এইচওয়াই২ সি, ওশান পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট : এইচওয়াই১ সি, এইচওয়াই১ ডি; আবহাওয়াবিষয়ক স্যাটেলাইট : এফওয়াই৩ এ, এফওয়াই৩ বি, এফওয়াই৪। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (টঝঅ) ঝঘচচ, ঘঙঅঅ ২০ও ২১, গঙউওঝ/অছটঅ এবং ইউরোপের (ঊটগঊঞঝঅঞ/ঊঝঅ) গবঃড়ঢ়-বি (গবঃড়ঢ়-ই) এবং জাপানের হিমাওয়ারি (ঐরসধধিৎর ৯) ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নাবিক, পণ্যবাহী জাহাজ, ট্রলারের জন্য এ প্রজেক্টের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা বর্তমানে পরিবেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া, মাছের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি প্রকল্প চালু হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় যেসব শিক্ষার্থী গবেষণার করতে চায় এটি তাদের অনেক সাহায্য করবে।

 এর আগে ২০১৯ সালে চীনের জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (ঝওঙ)-এর সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণার উদ্যোগ নেয় চবি ওশানোগ্রাফি বিভাগ। আলোচনা শেষে ২০২০ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত