২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একাধিক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। এই তহবিলের আওতায় বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব ঋণের সুদের হার সহনীয় রাখতে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত পণ্য খালাস সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, স্বর্ণ ও ডায়মন্ডসহ শতভাগ রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় শিল্পকে বন্ড সুবিধা বা শুল্কমুক্তভাবে ব্যাংক গ্যারান্টির আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও স্কুটার উৎপাদনেও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যবসা সহজীকরণে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ চালু করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ১৯টি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে হিট ম্যাপও প্রকাশ করা হয়েছে। এসএমই খাতের উন্নয়নে ইডকল, বিআইএফএফএল ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য আগামী অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত