নতুন পে-স্কেল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানালেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

জাতীয় সংসদে নবম জাতীয় পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবম পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ায় সরকারকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হলো। 

গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর গত ১১ বছরে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কোনো পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে তারা চরম চাপের মুখে পড়েছেন। 

একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের কল্যাণই নিশ্চিত করে না, বরং প্রশাসনের কর্মস্পৃহা, কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতন বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয় বাড়ে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হয় এবং রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পায়। দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে কোনো প্রকার ধাপ বিভাজন ছাড়াই এককালীনভাবে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেলকে অবশ্যই যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী হতে হবে। অতীতের সব সরকারের রেকর্ড ভেঙে যাতে ইতিহাসের সেরা একটা পে স্কেল বাস্তবায়িত হয়, ব্লক পোস্ট ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ৩ টা টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পূনর্বহাল করতে হবে। 

আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের পে-স্কেল এককভাবে, ২০০৯ সালের পে-স্কেল দুইধাপে এবং ২০০৫ সালের পে-স্কেল ও দুই ধাপেই বাস্তবায়ীত হয়েছিল,তখন ৫ বছর পরপরই পে-স্কেল হয়েছিল। এখন যেহেতু দেশ উন্নত হচ্ছে, মধ্যেম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, আধুনিকায়ন হচ্ছে, তাছাড়া নবম পে-স্কেল দীর্ঘ ১১ বছর পরে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এরই মধ্যে দ্রব্য মুল্যর ও বিশাল ঊর্ধ্বগতি সেই হিসাবে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে স্মরণ কালের একটা পে-স্কেল এককভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি সকল চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হলো।

জানা গেছে, বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারিদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তথা পে স্কেল আগামী মাস থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত