২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য পাঁচ হাজার ১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেট ধরা হয়েছে চার হাজার ৭৬৭ কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, উন্নয়ন বাজেট ৪২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক। নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
আমির খসরু বলেন, মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ‘প্যারেন্টিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের নিরাপদে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি ও সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যাশিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে প্রতি বছর গড়ে ৩৫০ জনকে আবাসন প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাক, শ্রবণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম আক্রান্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।