সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী ১ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। জনপ্রশাসন এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। বাজেটের সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে আগে জানিয়েছিল কমিশন। সরকার আপাতত ধাপে ধাপে সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
প্রতি বছরের ‘বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারে বিবরণী-২খ’ নামে একটি অংশ থাকে, যা আছে এবারও। এতে ‘পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’-এ দেখানো হয়, অফিসারদের বেতন, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি, এই তিন ভাগে আগামী অর্থবছরের জন্য হিসাব দেওয়া আছে ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বাড়ল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।