বিএনপি সরকারঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ব্যাপক ঋণনির্ভর হিসেবে দেখছে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব মন্তব্য করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়নি। দেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত করার রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।
বিশেষ করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই বাজেট বাস্তবায়নে যে কি পরিমাণ দুর্নীতি হবে, দলীয় কর্মীদের মাঝে দুর্নীতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারার একটি আয়োজন হিসেবে পরিগণিত হবে এই বাজেট।
তিনি বলেন, ঘোষিত বাজেটের প্রধান দুর্বলতা হলো- এটি একটি বিশাল অংকের ঘাটতি বাজেট। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট, একটি প্রথা হলেও এবারের বাজেটটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংকের একটি ঘাটতি বাজেট হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
এই বাজেটটি ব্যাপকভাবে ঋণ নির্ভর, যেখানে ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটের অর্থসংস্থান করতে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।
তবে এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কর কাঠামো বা দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসনের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অর্থমন্ত্রী খুব কৌশলী ভাষায় কর বৃদ্ধির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের জীবন এবং পোশাকশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সরকার 'করের উৎস বাড়ানো' বা 'করের জাল' তৈরির কথা বলে নাগরিক জীবনের ওপর সৃষ্ট চাপকে শব্দচাতুর্যের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বড় বাধা রয়েছে জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। এই তিনটি প্রতিকূলতার কারণে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি জনমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৯ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ