বাউবিতে দুই নতুন প্রো-উপাচার্যের যোগদান

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) প্রো-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্বে যোগদান করেন। 

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য তাঁদের এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁদের নিয়োগ প্রদান করা হয়।

অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) ও এম কম (মার্কেটিং) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮০ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কর্মজীবনে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান, ইএমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের হাউস টিউটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ও গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর একাধিক গবেষণা গ্রন্থ ও অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং গবেষণা সংস্থার অর্থনৈতিক ও মার্কেটিং পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অপরদিকে, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর জাপানের হোক্কাইদো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি তাইওয়ানের ন্যাশনাল চিয়াও তুং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর তিনি থাইল্যান্ডের সুখোথাই থাম্মাথিরাত ওপেন ইউনিভার্সিটি এবং ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (ইগনু) থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএড এবং নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে বিএড ডিগ্রি কৃতিত্বের সঙ্গে অর্জন করেন।
২০০৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্ল্যানিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মডিউলার পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তক রচনা, দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের স্ক্রিপ্ট প্রণয়ন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বাউবির শিক্ষা কাঠামো ও দূরশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এছাড়া ইউনিসেফ বাংলাদেশ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে তিনি ‘কী এক্সপার্ট’ ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। সর্বশেষ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক  সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত