বাজেট ২০২৬-২৭

জ্বালানি খাতে কর ছাড়ে সরকারকে একশনএইড-জেটনেট বিডির অভিনন্দন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকারের ঐতিহাসিক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানিয়েছে একশনএইড বাংলাদেশ ও জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেটবিডি)।

শুক্রবার (১২ জুন) একশনএইড পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের প্রতি এই অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানানো হয়।   

এতে উল্লেখ করা হয়,  প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যের আওতায় জ্বালানি খাতকে দশটি অগ্রাধিকার খাতের একটি হিসেবে রাখা হয়েছে। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর উপকরণে শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্পে নজিরবিহীন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ দেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাজেটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণ এবং ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বাজেটকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ বাজেটে সৌর বিদ্যুৎ, ব্যাটারি শিল্প ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতের উন্নয়নে গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। সৌর বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট উপকরণে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হার বহাল রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া লিথিয়াম,আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর-শুল্ক অব্যাহতি এবং স্থানীয় ইভি গাড়ি উৎপাদনে ব্যাপক কর নির্ধারণ করায় দেশীয় শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এই গাড়ি আমদানি ও চার্জিং স্টেশনে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ওপর কর বৃদ্ধি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্যাপাসিটি চার্জ পর্যালোচনা এবং ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনার উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। টেকসই, ন্যায়সংগত ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব দূরদর্শী পদক্ষেপের জন্য সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত