টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ইতিহাসে যা এর আগে কোনো বোলার করতে পারেননি, তেমনই এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন জাস্টিন গ্রিভস। ত্রিনিদাদের তারুবায় পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টে বল হাতে এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার। টানা পাঁচ ওভার বল করে পাঁচটিতেই উইকেট শিকারের পাশাপাশি প্রতিটি ওভার মেডেন নেওয়ার মতো অভাবনীয় এক নজির গড়েছেন এই ক্যারিবীয় পেসার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে নিয়েছিল সফরকারীরা। শান মাসুদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদে একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। তবে এর পরই বল হাতে ত্রাস সৃষ্টি করেন ৩২ বছর বয়সী গ্রিভস। সেঞ্চুরিয়ান শান মাসুদকে (১০৯) ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলার পর পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। এরপর একে একে আমির জামাল, আলী উসমান এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বিদায় করেন তিনি। লাঞ্চ বিরতির পর মোহাম্মদ আব্বাসকে ক্যাচ আউট বাধ্য করে নিজের ঐতিহাসিক পঞ্চম শিকার পূর্ণ করেন এই পেসার।
চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই ৫টি ওভারের একটিতেও কোনো রান খরচ করেননি গ্রিভস! ক্যারিয়ারের ১৭তম টেস্টে এসে প্রথম ফাইফার বা ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন তিনি। বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে, যিনি ২০১৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা ৪ ওভারে ৪ উইকেট ও ৪ মেডেন নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন।
গ্রিভসের এই আগুনে স্পেলের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে ২৯ রানে পিছিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস শেষ করে সফরকারীরা। তৃতীয় দিনশেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ১২৬ রান তোলে স্বাগতিকরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চুতর্থ দিনে ১৮১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এতে জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় পাকিস্তানের।
মাঠের লড়াইয়ে দলের চরম সংকটে কীভাবে এমন জাদুকরী পারফর্ম করলেন, সেটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গ্রিভস কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অধিনায়ককে। অধিনায়ক ও দলের বার্তা সম্পর্কে তিনি জানান, ‘যখন আমি বোলিংয়ে আসি, অধিনায়ক রোস্টন চেজ আমাকে কেবল নিজের কাজটায় ধারাবাহিক ও শৃঙ্খলিত থাকতে বলেছিলেন এবং দল যেন কিছু উইকেট পেতে পারে সেই চেষ্টা করতে বলেন।’
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠার পেছনের ভাবনা জানিয়ে গ্রিভস আরও বলেন, ‘বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আমি তার ফল পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, দল আমার দিকে তাকিয়ে থাকে যেন কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারকারী ও দলের আস্থার এক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারি। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পাওয়ায় আমি সত্যি অনেক আনন্দিত। তবে এই ম্যাচে জয়ের জন্য আমাদের কাজের এখনো অনেক বাকি আছে।’
এদিকে গ্রিভসের আগুনে বোলিংয়ের পরও ম্যাচের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দারুণ এক রোমাঞ্চ। প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে গুটিয়ে গিয়ে পাকিস্তান ২৯ রানে পিছিয়ে পড়লেও, দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। যা চতুর্থ দিনে ম্যাচটিকে করে তুলেছে আরও বেশি জমজমাট ও অনিশ্চিত।
