মরমি সাধক উকিল মুন্সীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গত ১১ জুন প্রদর্শিত হয়েছে তার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’।
প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রটি একটি বিশ্লেষণাত্মক জার্নির মধ্য দিয়ে গিয়েছে, একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন যাপনে যারা গানকে ধারণ করে রেখেছেন তাদেরও জার্নি দেখা গেছে। চলচ্চিত্রের নামের মধ্যেই সমকালীন প্রসাঙ্গিকতা হাজির হয়েছে।
নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ জানান, উকিল মুন্সীর বিভিন্ন গানে আমিত্বকে বাদ দেওয়ার আহ্বানই মূলত তাবে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করেছে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, উকিল মুন্সী এই সমাজের আলাদা কোনো চরিত্র নয়। তিনি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির একজন উত্তরসূরি।
উকিল মুন্সী একাধারে মসজিদের ইমামতি করেছেন, আবার কৃষ্ণভজন ও মরমি গানও রচনা করেছেন। ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ‘অপরাধী হইলেও আমি বন্ধু তর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’-এর মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি।
‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পিকলু নীল, প্রভাত আহমেদ এবং জন উইলিয়াম। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন, রবিউল ইসলাম শশী এবং সম্পাদনা ও রঙবিন্যাস করেছেন লায়লা ফেরদৌসী।
এই চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি বিশেষত্ব হলো এর পোস্টার। এতদিন সাধক উকিল মুন্সীর কোনো প্রতিকৃতি ছিল না। তাঁর আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে বর্ণনা শুনে পোস্টারের জন্য তাঁর একটি ছবি আঁকেন চিত্রশিল্পী এ জেড শিমুল।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘সিনেহাট’ ও ‘মোশন বাংলা’।