অফিস আসার পথে দেখলাম একজন খোলা ভ্যানে তাল বিক্রি করছেন। বর্ষাকালে ভ্যানে করে তাল বিক্রি করার দৃশ্যটা সকলের কাছেই স্বাভাবিক। কিন্তু এবার তাল বিক্রির দৃশ্য দেখে মাথায় সঙ্গে সঙ্গে এল ‘রইদ’ সিনেমার নাম!
ঈদের এক সপ্তাহ পর যখন ‘রইদ’ সিনেমা দেখলাম তখন স্টার সিনেপ্লেক্সের হলটি ছিলো পুরো হাউসফুল! অবাক হয়েছিলাম এতো দর্শক দেখে। সেই হিসেবেই এই রিভিউটি লেখা। কিন্তু ‘রইদ’ সিনেমার রিভিউ আসলে একেকজনের দৃষ্টিকোণ থেকে একেক রকম হবে, অন্তত ইতিমধ্যে যারা ‘রইদ’ সিনেমা নিয়ে নানাজনের নানা আলোচনা-সমালোচনা পড়েছেন, তারা সেটি ভালো ভাবেই উপলব্ধি করেছেন।
আমার মতে, ‘রইদ’ সিনেমার বড় সাফল্য হলো মুক্তির তিন সপ্তাহ পরও সিনেমাটি আলোচনার টেবিলে। অনেকেই বলতে পারেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি তো ২ মাস পরও আলোচনায় আছে। কিন্তু ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আর ‘রইদ’ দুটো ভিন্ন জনরার সিনেমা।
‘রইদ’ সিনেমার রিভিউ লেখার জন্য মাথায় অনেক টপিক নিয়েও বসেছিলাম। কিন্তু লেখার সময় মনে হলো সিনেমাটির ভেতরে বার বার রূপক অর্থে ‘তাল’ দেখানো নিয়েই আলোচনা করাটা বেশি সমীচিন। কারণ ‘রইদ’ সিনেমা পুরোটা দেখা যে কোন দর্শক তার বাকি জীবনে যতবার তাল দেখবেন বা তালের তৈরি পিঠা খাবেন, ততবারই তার ‘রইদ’ সিনেমার কথা মনে পড়বে। আর এটাই হলো ‘রইদ’ সিনেমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা!
তাল গাছ থেকে তাল পড়ার শব্দ, তাল দিয়ে সুস্বাদু একাধিক পিঠা তৈরি কিংবা তাল চুরির ঘটনা প্রভৃতি ‘রইদ’ সিনেমায় বারংবার এসেছে। এর মধ্যে দিয়ে মূলত সিনেমাটির গল্প সাবলীল ভাবে এগিয়েছে। দর্শক এতে বিভ্রান্ত হয়নি, বরং তালের সঙ্গে সিনেমার যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছে প্রতি মুহূর্তে। ‘রইদ’ সিনেমাটি দেখার সময় তাৎক্ষণিক ভাবে আমার মাথায় দুটি বিষয় এসেছে। ১. এই সিনেমাটির দর্শক সবাই না! ২. এই সিনেমাটি দেখতেও এতো দর্শক?
সিনেমাটি যে কাহিনী, তাতে করে দর্শক এতে প্রতি মুর্হূতে মজা পাবেন না এটা যেমন সত্য, তেমনি সিনেমাটি দেখে ঘরে ফেরার পরও মিনিমাম ২ দিন সিনেমার কাহিনী দর্শকের মাথায় ঘুরতে থাকবে। একজন পাগলী মেয়ের সাথে নিরক্ষর এক রাখালের বিয়ে, সংসার, বিচ্ছেদের কাহিনীই মূলত ‘রইদ’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে। সিনেমাটির সাউন্ড মিক্সিং ও সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন লৌকিক অনুষঙ্গ সিনেমাটিতে খুঁজে পাওয়া যাবে। নৌকায় করে মাছদেরকে খাবার দেয়া, লোকমেলা সহ গ্রামীণ নানা বিষয়কে সিনেমাটিতে তুলে আনা হয়েছে। ফলে সিনেমাটির আর্কাইভাল ভ্যালুও বেশ।
তবে ‘রইদ’ সিনেমাটি নিয়ে আলোচনাই হতো না, যদি না সিনেমাটির দুই মুখ্য চরিত্র নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান তাদের অনবদ্য অভিনয় প্রতিভা এতে প্রদর্শন না করতেন। আমি তো বলবো, আগামী বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য এই দুইজনই আমার টপ ফেভারিট থাকবেন। বিশেষত চরিত্রকে এতো সু²ভাবে ফুটিয়ে তুলতে উভয়ের প্রচেষ্টা সত্যিই স্যালুট পাওয়ার যোগ্য।
পরিশেষে সিনেমাটির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন সম্পর্কে দুটি কথা না বললেই নয়। পরিচালককে আমি মূলত চিনি ‘তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’ শিরোনামের একটি অসাধারণ নাটকের নির্মাতা হিসেবে। আমার ধারণা, এই নাটকে জয়া আহসান তার জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয়টিই করেছিলেন। সুতরাং, তার কাছ থেকে রইদের মতো একটি ভালো প্রোডাকশন আসবে সেটা ভেবেই মূলত সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম। বলাবাহুল্য, পরিচালক আমাকে হতাশ করেননি। বরং, আগামীতে আরো ভালো কোন কাজ তার কাছ থেকে পাবো সেই প্রত্যাশাই থাকবে।
লেখক: অভিনেতা ও নাট্যকার
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যর্থতা কঙ্গনার
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় জানালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
এএবিএ সাস্ট ও ঢাকার ইউনিকো হসপিটালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে চুক্তি স্বাক্ষর
আত্মগোপনে গিয়ে বলা হয়েছে, গু/ম করা হয়েছে: রাশেদ খান