জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অগ্রাহ্য করা হলে জনগণ বসে থাকবে না। ৫১ শতাংশ মানলে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে মানতে হবে।
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন কর্মসূচি পালন করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার মুখ থেকে বারবার ভুল তথ্য বের হওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা তাকে ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটের সমালোচনা বিরোধী দল করবে, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কিছু নেই। জনগণ সমর্থন দেবে, প্রশংসা করবে যখন দেখবে সরকার আন্তরিক।
তিনি বলেন, জনগণ যখন দেখে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, তখন তারা বসে থাকবে না। যে সরকার জনগণের, সেই সরকারকে জনগণের রায় মানতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললেই যদি কারও মন খারাপ হয়, আমাদের কিছু করার নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও দেশে কোথাও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সরকারকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেওয়া নোটিশ নিয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই এসব বিষয় সংসদে আলোচনা হোক। কিন্তু যদি আলোচনা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে জনগণ সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, হুমকি-ধমকি, জেল বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে আগামীতে আন্দোলন দমন করা যাবে না। দেশের জন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন জনগণের রায় ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে হতে হবে।