মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি আজ রবিবার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ একই দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ৮০তম জন্মদিন পালন করছেন। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ দিনে ট্রাম্পের এই ঘোষণা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘চুক্তিটি রবিবার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’
তবে ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণার বিপরীতে তেহরানের অবস্থান এখনো কিছুটা অস্পষ্ট। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার (১৩ জুন) জানিয়েছিলেন, রবিবার কোনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরিকল্পনা নেই এবং কোনো আলোচকই চুক্তির প্রস্তুতির জন্য জেনেভায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। বাঘাইয়ের দাবি অনুযায়ী, চুক্তিটি ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ স্বাক্ষরিত হতে পারে।
উভয় পক্ষই চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও শর্তাবলি নিয়ে মতভেদ এখনো বিদ্যমান। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র প্রসারের পথ রুদ্ধ করবে এবং কোনো আর্থিক লেনদেন ছাড়াই এটি কার্যকর হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর উপযুক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় থাকা ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেওয়ার বা ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারকটি কেবল দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার একটি সূচনা বিন্দু। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালী পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমানের হাতেই থাকবে বলে তারা দাবি করছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপের আলোচনায় রাখা হয়েছে।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে এবং পারস্য উপসাগর দিয়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক এই তৎপরতা যুদ্ধ অবসানের একটি ইঙ্গিত হলেও, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ‘যদি এই প্রক্রিয়া সফল না হয়, তবে আমাদের হাতে চরম বিকল্প রয়েছে, যা আশা করি আর ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।’ তবে সেই ‘চরম বিকল্প’ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ মধ্যস্থতাকারীরা এই চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে আশাবাদী ভূমিকা পালন করছেন। তবে আজ দিনের শেষভাগে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।