বাজেটে কৃষি খাতের প্রকৃত বরাদ্দ ও কৃষকের অধিকার নিয়ে নাগরিক সংলাপ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের প্রকৃত বরাদ্দ, কৃষকের অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি কৃষিখাতে প্রনোদনার স্বল্পতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষিবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি কি পেলো’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিরাপদ কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নিউজ পোর্টাল ‘ক্ষেতে-পাতে’ এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাজেটের আগে তৃণমূলের কৃষকদের কথা শুনতে হবে। কোনো কৃষক নেতা বা নির্দিষ্ট দল নয়, বরং মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা কী চান—বাজেটে তার সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন থাকা জরুরি। এবারের বাজেটকে ‘কৃষিবান্ধব’ বলা হলেও, প্রকৃত অর্থে কৃষক কী চান তা ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে।

অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—সরকারের ঘোষিত ‘কৃষি সমৃদ্ধি অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে’র রাজনৈতিক অঙ্গীকার এই উচ্চাভিলাষী বাজেটের মাধ্যমে কতটুকু বাস্তবায়িত হবে এবং নাগরিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাজেটে কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, প্রায় ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে কৃষি ও কৃষকের জন্য প্রকৃত বরাদ্দ কত, তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। সনাতন কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের এই সন্ধিক্ষণে প্রান্তিক কৃষকের প্রণোদনা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।

নীতিগত দুর্বলতা ও বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণে শুধু বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং ফসলোত্তর অপচয় রোধ, আধুনিক কোল্ড চেইন স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে সুনির্দিষ্ট খাতের সংস্কার প্রয়োজন।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব কৃষির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধির জোর দাবি জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সাংবাদিক রিয়াজ আহমেদ বলেন, বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে এমন উন্মুক্ত ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া উচিত—যাতে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে চূড়ান্ত বাজেট পাস করা সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত