ইরানে বিনিয়োগের জোয়ার আনতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল গঠন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে যে কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি তহবিল গঠনের রূপরেখা রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এই তহবিল তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্ধেকের বেশি অর্থ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯ জুন) দুই দেশের আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করার কথা রয়েছে। এই তহবিল মূলত উভয় পক্ষকে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরে উৎসাহিত করার একটি বড় অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

এই তহবিলটি কোনো সরকারি অনুদান বা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের অংশ নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থা। এতে কোনো সরকারি অর্থের সংযুক্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি এই তহবিলে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জ্বালানি, লজিস্টিকস, উৎপাদন শিল্প এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে এই বিনিয়োগ ব্যবহৃত হবে।

ইরানি সূত্রের তথ্যমতে, তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রথমে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন তাতে রাজি হয়নি। এর বিকল্প হিসেবেই এই ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ বা পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিলের ধারণাটি সামনে আসে। আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণ সুবিধা প্রদান, ক্রেডিট লাইন খোলা অথবা যুদ্ধবিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো সরাসরি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে। মোবারকাহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকার পাবে।

গত ৪ দশকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন ইরানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ও চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত থাকা এই দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা অপরিসীম। ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটিতে পেট্রোকেমিক্যাল, খনি, পর্যটন ও কৃষিখাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই বিনিয়োগ তহবিলটি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া বা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তির প্রক্রিয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তহবিলটি কার্যকর হবে কেবল চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা ও পরিধি নির্ধারণ করা হবে। পাকিস্তান এই বিনিয়োগ চুক্তি মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস এবং কঠোর পরিদর্শনের শর্ত মেনে নেয়, তবেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের সুবিধা পাবে। তবে তহবিলটি কে বা কারা পরিচালনা করবে এবং এর বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিনিয়োগকারী হিসেবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির নাম শোনা গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ৬০ দিন দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির পথে এগিয়ে যাবেন।

সূত্র: রয়টার্স

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত