দেশে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বিএডিসি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম

আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মানসম্পন্ন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ (এন-৫৩ ও বারি-৫ জাতের) উৎপাদনে প্রথমবারের মতো দেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের দেশে দু’টি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন এবং অন্যটি গ্রীষ্মকালীন। 

শীতকালীন মৌসুমে সারা দেশের কৃষকদের পেঁয়াজ বীজের চাহিদা প্রায় ১১০০-১২০০ মে.টন। চাহিদার বিপরীতে বিএডিসি গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ২০-৩০ মে.টন শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমেও আমাদের দেশের কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদনে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। মূলত গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বিএডিসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয় না। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ আমদানিপূর্বক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রণোদনা আকারে কৃষকদের নিকট বিতরণ করা হয়ে থাকে।
 
কৃষকদের নিকট গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ সরবরাহের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা সম্পূর্ণরূপে কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার কর্তৃক দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনে অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী তিন অর্থবছরে দেশের ভেতরেই বিএডিসি ১১০ মে.টন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিএডিসি আগামী উৎপাদন মৌসুমে ৩০-৪০ মে.টন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরণের কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মর্মে জনসংযোগ বিভাগ জানায়।  
জনসংযোগ বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে সংস্থার মোট ২৩টি খামারে এন-৫৩ ও বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হবে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান, বিএডিসি জনাব মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান যে, প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করার বিষয়টি একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমনি অন্যদিকে বিএডিসি’র জন্য একটি বড় অর্জন। কৃষকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজের চাহিদা থাকায় সরকারী পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বিএডিসিকেই এ চ্যালেঞ্জে সফল হতে হবে। ইতোমধ্যে সকল বিভাগ ও খামারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সভা করে এ লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বীজ বপন থেকে শুরু করে মাড়াই (হারভেস্ট) পর্যন্ত সমুদয় কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনসহ সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রদানের জন্য মনিটরিং ও সুপারভিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

চেয়ারম্যান, বিএডিসি আরও বলেন, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল, কলাকৌশল নির্ভর এবং Highly Cross Pollinated হওয়ায় কৃষকদের নিকট মানসম্পন্ন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সমুদয় পদক্ষেপ কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে হবে। বীজের গুণগতমান নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনরূপ ছাড় দেয়া হবে না মর্মেও চেয়ারম্যান, বিএডিসি গুরুত্বারোপ করেন।

গ্রীষ্মকালে বিএডিসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে তেমনি কৃষকরাও আরও গুণগতমানসম্পন্ন পেঁয়াজ বীজ স্বল্পমূল্যে প্রাপ্তিতে সক্ষম হবে। এটি দেশের কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত