লিওনেল মেসির স্মরণীয় হ্যাটট্রিকে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই মাঠের দাপুটে পারফরম্যান্সের আড়ালে রেফারিং ও প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। ম্যাচের শুরুর দিকে মেসির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হলেও, ফুটবল বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর দাবি—ফিফার অফসাইড প্রযুক্তির ভুলের কারণে একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ার জালে জড়িয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তবে সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির পরীক্ষাতেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
তবে ম্যাচ শেষে ফুটবল ডাটা ও রেফারিং বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘আর্কাইভো ভিএআর’ তাদের নিজস্ব প্রজেকশন ও গ্রাফিক্স প্রকাশ করে দাবি করেছে, ওই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক সম্পূর্ণ অনসাইডে ছিলেন।
সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, "ডিফেন্ডারের নিখুঁত অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভিএআর সিস্টেম আজ মারাত্মক ভুল করেছে। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগের যে খেলোয়াড়ের সাপেক্ষে মেসির পজিশন মাপা হয়েছে, ত্রিমাত্রিক লাইনে তার শরীরের সঠিক শেষ প্রান্তটি সঠিকভাবে প্রজেক্ট করা হয়নি। সেই ত্রুটি সংশোধন করলে দেখা যায় মেসি স্পষ্ট লাইনের ভেতরেই ছিলেন।"
ম্যাচের ১৭, ৬০ এবং ৭৬ মিনিটে আরও তিনটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে মেসি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করায় এই বাতিল গোলটি আর্জেন্টিনার জয়ের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং ভিএআর-এর নির্ভুলতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচেই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেল।
এই চরম প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি বা ভুল সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি কমিটির পক্ষ থেকে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।