সীমান্তে শূন্যরেখায় চার দিন ধরে আটকে আছেন ৯ জন

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন করা নারী-শিশুসহ ৯ জন চার দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছেন। তাদের মধ্যে ৬ মাস ও আড়াই বছর বয়সী দুটি শিশুও রয়েছে। রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশু, এক নারী ও তিন পুরুষ এবং ভন্দুরচর সীমান্তে আরও তিন যুবক খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত দিন কাটাচ্ছেন। সামান্য একটি প্লাস্টিকের ছাউনিই এখন তাদের আশ্রয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হচ্ছে না। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিজিবি আবারও বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রচন্ড রোদ, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। বিশেষ করে ৬ মাস ও আড়াই বছর বয়সী শিশু দুটি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে।

এর আগে গত রবিবার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকে সেখানেই অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টার কারণেই এসব মানুষ আজ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে দুই নিষ্পাপ শিশুর দুর্ভোগ তাদের নাড়া দিয়েছে। গয়টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, শিশু দুটির ওপর অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এ ঘটনার সমাধান চাই। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবিক বিবেচনায় দুই দেশের কর্তৃপক্ষ দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করবে, যাতে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত