প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ!

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সুমন ঘোষের দাবি, তিনি গত আড়াই বছর ধরে একটি চিত্রনাট্য নিয়ে টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তার সঙ্গে অভিমানের ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’র অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে। টলিউডকে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘কাদম্বরী’, ‘বসু পরিবার’, ‘নোবেল চোর’-এর মতো একাধিক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা উপহার দিয়েছেন সুমন ঘোষ। সেই সুমন এবার ‘চুরি’র অভিযোগ তুললেন ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’র দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেজিতের জন্য লিখেছেন খোলা চিঠি। যেখানে অভিযোগ, অভিমান ছবির ‘ভাবনা এবং চরিত্র চুরি’র। সুমনের দাবি, তিনি গত আড়াই বছর ধরে এমনই এক চিত্রনাট্য নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তার সঙ্গে অভিমান-এর ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’র অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে। 

ইতিম্যধ্যেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ‘অভিমান’ মেইলের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সুমন ঘোষ। আর সেটাই সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাগ করে নিলেন। সঙ্গে আরও লিখলেন, অভিমান ছবিতে প্রসেনজিতের চরিত্রায়ণ তাঁর পরিকল্পিত ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই, তিনি শুধু মনে করেন প্রসেনজিৎ বিষয়টি তাঁকে আগে জানাতে পারতেন। যদিও সুমন ছবিটি দেখেননি, তাই দর্শকদের এই নিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, তাঁর দাবি ভুল প্রমাণিত হলে তিনি ক্ষমা চাইবেন, তবে অভিযোগ সত্য হলেও তাঁর আর নিজের ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। 

ই-মেইলে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিকে সুমন লিখেছেন, ‘প্রিয় বুম্বাদা, অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিচলিত করছে। ​সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?’ 

এরপর সরাসরি প্রসেনজিতের দিকে আঙুল তুলে সেই মেইলে লেখা হয়, গত আড়াই বছর ধরে তিনি ‘স্টার’ নামে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য শুরু থেকেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেই ভেবেছিলেন। এই সময়ে তাঁদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং চরিত্রটির বিভিন্ন দিক, লুক ও গল্পের উপাদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’-এর টিজার ও ট্রেলারে তিনি তাঁর পরিকল্পিত চরিত্রের সঙ্গে একাধিক বিস্ময়কর মিল খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একজন সুপারস্টারের দুই ভিন্ন বয়সের রূপ, তার হঠাৎ অন্তর্ধান, নির্জন ও ভগ্নপ্রায় পরিবেশে বসবাস, শারীরিক ও মানসিক অবক্ষয়ের চিত্র, নিজের অতীত সত্তার প্রতীক ধ্বংস করা এবং একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতি। 

পরিচালকের দাবি, গল্প আলাদা হলেও চরিত্রায়ণের এই সাদৃশ্য তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিশ্রমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তার অভিযোগ মূলত আইনি বা কপিরাইট সংক্রান্ত নয়, বরং শিল্পীসুলভ সততা, বিশ্বাস ও পেশাগত নৈতিকতার বিষয়ে। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভাগ করে নেওয়া সৃজনশীল ভাবনার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো উচিত ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত