হরমুজ খুলতে ইরানের ৬ শর্ত

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ এএম

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের গুরুতপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একাগুচ্ছ শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বন্দরে আরোপিত নৌ অবরোধ ও দেশটির অর্থনীতির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ ছয়টি শর্ত দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। গত শনিবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এসব শর্তের কথা জানান। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করতে হবে। ফলে ইরান-ওমানের মধ্যে চলমান সমঝোতা হলেও, দ্রুত হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই পথটি উন্মুক্ত করা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয়ের ওপর। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার খবরও নাকচ করেছেন তিনি।

ইরানের এসব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে। তাকে হয় তেহরানের কিছু দাবিতে ছাড় দিতে হবে, নয়তো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অব্যাহত বিঘ্ন মেনে নিতে হবে। হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বা জাহাজ চলাচলের জন্য তেহরানকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার যেকোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে ওয়াশিংটন। তবে ইরান বলেছে, হরমুজ কখনোই আর যুদ্ধ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলেই কেবল নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প নিজেও এ সপ্তাহে স্বীকার করেছেন, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান সবসময় কিছুতে গুলি করতে পারে অথবা মাইন পুঁতে দিতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড শেঙ্কার বলেন, অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রাজ জিম্ত বলেন, মোহেবি ও আরাগচির মন্তব্য থেকে বোঝা যায় ইরানের দৃষ্টিতে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় ‘সর্বোচ্চ’ যা হতে পারে, তা হলো ভবিষ্যতে কীভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, সেই পদ্ধতি ঠিক করা। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির একটি ট্যাংকার ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছিল, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে জলপথটিতে তাদের অন্তত ১৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত