গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, একদিনে নিহত ৯

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০১:১৫ এএম

গাজা উপত্যকায় শনিবার (২০ জুন) ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। হামলায় ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একজন সশস্ত্র যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে আরেকটি বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।

দিনের শেষ দিকে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় আলোকচিত্রীও ছিলেন বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

গত অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,০১০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েল দাবি করে, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে হামাস সাধারণত তাদের নিহত যোদ্ধাদের সংখ্যা প্রকাশ করে না।

গাজা সংকটের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এখনও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনীকে ধীরে ধীরে গাজা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় ট্রাম্পের গাজা বিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও অংশ নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামাসের কিছু উদ্বেগের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনার একটি সংশোধিত খসড়া সম্প্রতি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামাস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

এদিকে ইসরায়েলের অবস্থান হলো, হামাসকে গাজার ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনে কোনো ভূমিকা রাখা যাবে না। অপরদিকে হামাস বলছে, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ কেবল তখনই সম্ভব, যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত