বগুড়ার শেরপুরে ফসলি জমিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পরে বাবার খোঁজে গিয়ে একই তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে তার ছেলে। গত শুক্রবার উপজেলার টুনিপাড়া মৌজার একটি ফসলি জমিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম কোরবান আলী (৪৫)। আহত ছেলে মো. রবিন (১৮)। তাদের বাড়ি উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের কেল্লা উত্তরপাড়া গ্রামে।
নিহতের ভাতিজা নুর আলম ও শ্যালক আব্দুল কাদের জানান, গত শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোরবান আলী টুনিপাড়া মৌজায় নিজের জমিতে কাজ করতে যান। সেখানে সেচ পাম্পের জন্য টানানো ১১ হাজার ভোল্টেজের একটি তার ছিঁড়ে ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত ওই তারে জড়িয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সারাদিন তিনি বাড়ি না ফেরায় সন্ধ্যায় ছেলে রবিন তার বাবার খোঁজে ওই জমিতে যান। অন্ধকারে বাবার পড়ে থাকা দেহ স্পর্শ করামাত্র রবিনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন। পরে রাত ৭টার দিকে মা রুবি খাতুন প্রতিবেশী একজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে স্বামী ও সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর রবিনকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রবিন বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও মা রুবি খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ওই রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।’