বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন পার করল ফুটবল বিশ্ব। একই দিনে দুই মহাতারকা—লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে—নিজেদের নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। একদিকে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার ম্যাচে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি।
অন্যদিকে, ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফ্রান্সের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার রাতে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছুঁয়ে মেসির পিছু ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসি এখন এককভাবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। তিনি পুরুষ বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) এবং নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ব্রাজিলের মার্তার (১৭ গোল) সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যাচ্ছে না মেসিকে
৩৮ বছর ৩৬৪ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি তৃতীয় প্রবীণতম গোলদাতার স্থান ধরে রেখেছেন। এছাড়া ৩টি ভিন্ন বিশ্বকাপে ৪ বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তিতে ক্লোসের পাশে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও আর্জেন্টিনা জিতেছে। বিশ্বকাপে এটি মেসির ৩য় পেনাল্টি মিস (শুটআউট বাদে), যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও বটে। তবে ৩৫ বছর বয়সের পর তিনি বিশ্বকাপে ১২টি গোল করেছেন, যা হ্যারি কেইন বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পুরো ক্যারিয়ারের বিশ্বকাপ গোলের চেয়েও বেশি।
মেসি চূড়ায় বসার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাকে তাড়া করতে শুরু করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেছেন এই পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় এমবাপ্পে
মাত্র ২৭ বছর ১৮৪ দিন বয়সে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফুটবলে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শততম ম্যাচ খেলার মাইলফলকের রাতে বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলটি তুলে নেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ বিশ্বকাপের অলটাইম গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। মেসির (১৮ গোল) রেকর্ড ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২ গোল।
টানা ম্যাচে জোড়া গোলের কীর্তি
বিশ্বকাপের টানা ৩টি ম্যাচে ২ বা তার বেশি গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। এর আগে স্যান্ডর কোকসিস, গুইলারমো স্ট্যাবিল এবং খোদ মেসি এই কীর্তি গড়েছিলেন।