তেলের বাজারে চীনের ‘অদৃশ্য হাত’

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও বৈশ্বিক তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে আলোচনার বাইরে থাকা চীনের ওপর।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশ চীন যুদ্ধকালীন সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় আমদানি কমানো, বিপুল মজুদ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ভূমিকা রাখছে। ফলে যুদ্ধের কারণে দৈনিক ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের যুদ্ধের পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে ব্রেন্ট ক্রুড সাম্প্রতিক সময়ে ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ৭০ ডলারের নিচে ছিল এবং মে মাসে সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে উঠেছিল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্বারের এক বিশ্লেষক বলেন, চীন এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রিসট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে সস্তা রাশিয়া ও ইরানি তেল আমদানির মাধ্যমে চীন বিপুল মজুদ গড়ে তোলে, যা এখন ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি।

চীন বর্তমানে রিফাইন্ড তেলের রপ্তানি সীমিত করেছে এবং দেশীয় চাহিদা মেটাতে ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) ব্যবহারের দিকে দ্রুত ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি দুইটি নতুন গাড়ির মধ্যে একটি এখন বৈদ্যুতিক বা নিউ এনার্জি যান, যা প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল খরচ কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের এই নীতিগত পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখলেও মজুদ শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আবারও বদলাতে পারে। তারা সতর্ক করেছেন, বিশ্ব তেল বাজারে চীনের প্রভাব এখন 'অদৃশ্য ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি' হিসেবে কাজ করছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত