নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মোড়কে ‘ফ্রন্ট অফ প্যাকেজ লেবেলিং’(এফওপিএল) কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এফওপিএল: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, ‘খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে জানা জনগণের মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর উপাদান সহজে চিহ্নিত করার জন্য ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
বক্তারা বলেন, খাদ্যের মোড়কে সহজবোধ্য ও স্পষ্ট পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও কার্যকর একটি পদ্ধতি। তাই এফওপিএল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আইনি বাধ্যবাধকতা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করা জরুরি।
কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে খাদ্য পরিবেশ, অসংক্রামক রোগ ও এফওপিএল’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন নাহার মহুয়া।
‘জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাডভোকেসিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান সোহেল। এছাড়া ‘এফওপিএল বিষয়ক কার্যকর সংবাদ পরিবেশনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন।
আলোচকরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকে আরও অনুসন্ধানী, তথ্যভিত্তিক ও ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা এফওপিএল বিষয়ে জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।