জুলাই আন্দোলনে চুপ থাকার কারণ জানালেন ডা. আবদুল্লাহ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো কোনো সামর্থ্য তার ছিল না। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এ দাবি করেন তিনি।

ডা. আবদুল্লাহ জানান, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের সময় শেখ হাসিনার মধ্যে তেমন কোনো ভাবান্তর বা অনুশোচনা ছিল না, বরং মানসিকভাবে বেশ স্বাভাবিক ও দৃঢ় ছিলেন তিনি।

জুলাইয়ে যখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে ঘরে থাকা শিশু হত্যা করা হচ্ছিল কিংবা জানাজার নামাজেও গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন শেখ হাসিনার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, তিনি মোটামুটি ভালো ও স্বাভাবিক ছিলেন। চিকিৎসকের নীতি অনুযায়ী রোগীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য মিডিয়ায় বলা ঠিক নয়, তবে এটুকু বলা যায় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন।

বিশ্ব বিবেক যখন ছাত্র-জনতার রক্তে কাঁদছিল, তখন শেখ হাসিনার এত কাছে থেকেও কেন চুপ ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, তখন চুপ থাকা ছাড়া আমার কিছু করার সামর্থ্য ছিল না। আমি তো কোনো রাজনৈতিক নেতা নই, কিংবা কোনো এক্সিকিউটিভ পোস্টে বা ক্ষমতায় ছিলাম না। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার করার কিছু ছিল না। তবে মানুষ হিসেবে মানুষের কষ্ট দেখলে তো কষ্ট লাগবেই।

তিনি আরও বলেন, উনি উনার মন্ত্রী বা বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনা করতেন। আমি সেখানে কখনও যোগদান করিনি, ইন্টারফেয়ারও করিনি। আমার কাজ ছিল শুধু উনার চিকিৎসা করা এবং আমি নিজের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতাম।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তার ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল ও বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, আমি মনে করি কাজটি অন্যায় হয়েছে, আমার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত।

১৩ জুন ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া আজীবন নিয়োগটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাদিও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত