ইসরায়েলি ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ গাজার বাসিন্দাদের কাছে এখন নিত্যদিনের এক বিভীষিকাময় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। গত বছর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কেবল কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ। এই চুক্তির আওতায় যে নিরাপদ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানেও এখন প্রতিদিন অবিরাম হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
শনিবার (২৭ জুন) গাজা উপত্যকায় বিমান হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এবারের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল গাজা সিটি এবং আল-মাওয়াসি এলাকার অস্থায়ী তাঁবুগুলো। অথচ যুদ্ধবিরতির মানচিত্র অনুযায়ী, আল-মাওয়াসি এলাকাটিকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই চালানো এসব হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন।
আকাশপথে হামলার পাশাপাশি গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। তারা তাদের তথাকথিত ‘হলুদ সীমারেখা’ বা ডিমারকেশন লাইনের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে।
মধ্য গাজার আল-মুসাদ্দার গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গতবারের চিহ্নিত সীমানা অতিক্রম করে আরও ৫০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক দিয়ে চিহ্নিত এই সীমানা পেরিয়ে আসার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তাদের বেঁচে থাকা এবং নিরাপত্তা এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
গাজার বাস্তব চিত্র বলছে, যুদ্ধবিরতি এখন কেবলই একটি নামমাত্র শব্দ। বাস্তবে সেখানে প্রতিদিনই ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও অসহনীয় করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা