যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নতুন নির্দেশনা

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য নতুন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ আবেদনকারী আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সরাসরি গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) প্রকাশিত নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এতদিন যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস পদ্ধতিতে অনেক অস্থায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতেন, সেটি আর সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে না। এর পরিবর্তে কনস্যুলার প্রসেসিং হবে আবেদন নিষ্পত্তির প্রধান প্রক্রিয়া।

এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে চাকরি পেলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ভিসার ধরন পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। এতে তারা আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালেও দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতির ফলে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়েছে।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন এখন কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবেচিত হতে পারে। অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর। এতদিন তারা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির আওতায় কাজ করে পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতেন। নতুন নিয়মে সেই প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠবে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন কেসভিত্তিক এবং তাদের বিবেচনাধিকার অনুযায়ী মূল্যায়ন করবেন। ফলে আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়বে বলে মনে করছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রধান বিভাগগুলো হলো, ইবি-১ বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়ায় অসাধারণ দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য, পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধ্যাপক, গবেষক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্বাহীর জন্য। ইবি-২ উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী, বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য। এবং ইবি-৩ দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অভিবাসন আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ পান।

ইউএসসিআইএস বলছে, নতুন নীতির উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করা। একই সঙ্গে সংস্থাটি অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও বেশি সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোর দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক বৈধ অভিবাসীর কর্মজীবন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও আসতে পারে।

তবে জাতীয় স্বার্থ বা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউএসসিআইএস। যদিও অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য কনস্যুলার প্রসেসিংই এখন গ্রিন কার্ড আবেদনের প্রধান পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত