সবজির পর কাঁঠালেও সাফল্য, চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায় 

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

রাজধানীর ‘কিচেন গার্ডেন’ হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সারা বছর সবজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত। দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে গবাদিপশু পালনেও এ উপজেলার সুনাম রয়েছে। এবার সেই পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুস্বাদু কাঁঠালের বাম্পার ফলন। 

রবিবার (২৯ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি বিভিন্ন সড়কের পাশ ও বসতবাড়ির আঙিনাজুড়ে কাঁঠাল গাছে ঝুলছে অসংখ্য পাকা ফল। বাস্তা-মানিকনগর-সাহরাইল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ কাঁঠাল গাছে ঝুলে থাকা বড় বড় কাঁঠাল সবুজ পাতার ফাঁকে সৃষ্টি করেছে নয়নাভিরাম দৃশ্য। এ মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, তেমনি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে এ মৌসুমি ফল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সিংগাইরের মানুষ কাঁঠালের জন্য পাশের সাভার এলাকার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। এখন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেই প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হওয়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

জামির্ত্তা গ্রামের বাসিন্দা রেখা আক্তার বলেন, বসতবাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছগুলোতে প্রতিবছরই ভালো ফলন হয়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের দিই, বাকিগুলো বাজারে বিক্রি করি।

পানিশাল গ্রামের বাসিন্দা ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “এই সড়কের পাশে শুধু কাঁঠাল নয়, আম, লিচু, জামসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ রয়েছে। এসব গাছ স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ও নিশ্চিত করছে।”

পরিবেশবাদী কর্মী প্রকৌশলী আবু সায়েম বলেন, উপজেলার অনেক শাখা সড়কের মতো হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশেও একসময় সারিবদ্ধ ফলজ ও বনজ গাছ ছিল। ২০১৮ সালে সড়ক প্রশস্তকরণের সময় শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়। এখন সেখানে নতুন করে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জরুরি।

মেদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের সময় বাড়ির সামনের অনেক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। নতুন করে গাছ লাগানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ হয়নি।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কিশোর আহমেদ বলেন, উপজেলায় কাঁঠালের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের আঠাবিহীন ও উন্নত জাতের কাঁঠাল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বসতবাড়ির আশপাশে বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ এলাকায় একটি হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন করা গেলে কৃষকরা সহজে ও স্বল্প খরচে উন্নতমানের দেশীয় ফলের চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে ফল উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত