বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়টি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে কেবল ৫০তম জয় হিসেবেই লেখা থাকবে না, এটি মনে রাখবে ‘পাজ পরিবার’ও। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণ সামলেছিলেন বাবা পাবলো পাজ। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই চেনা ‘আলবিসেলেস্তে’ জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে জায়গা করে নিলেন ছেলে নিকো পাজ। গ্যালারিতে বসে ছেলের এই স্বপ্নপূরণ দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বাবা পাবলো।
ছেলের এই রাজকীয় অভিষেক দেখে পাবলো পাজ বলেন, “এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গত ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিল, কিন্তু আজ যখন ওকে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথম মিনিট থেকে মাঠে দেখলাম, আমার চোখের সামনে পুরোনো সব স্মৃতি ভেসে উঠছিল। আমি গত দুই সপ্তাহ ধরে কাঁদছি। নিজের ছেলেকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা সত্যি করতে দেখা এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।”
দলে নতুন হয়েও যেভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, তা নিয়ে নিকো পাজ বেশ উচ্ছ্বসিত। ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া নিয়ে তরুণ এই তুর্কি বলেন, “মাঠের বাইরে যখন সবার সম্পর্ক দারুণ থাকে, তার প্রভাব মাঠের খেলাতেও পড়ে। আমাদের এই দলে সিনিয়ররা যেভাবে আমাদের আগলে রাখেন, তা অবিশ্বাস্য। লিওনেল মেসি আর নিকোলাস ওতামেন্দিদের মতো কিংবদন্তিদের কাছ থেকে আমি প্রতিদিন শিখছি।”
মেসি-ওতামেন্দিদের দেওয়া পরামর্শের কথা উল্লেখ করে নিকো বলেন, “ম্যাচের আগে-পরে ওরা সবসময় আমার পাশে আসে, কথা বলে। ওরা শুধু একটা কথাই বলে—‘ভয় না পেয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো, শান্ত থাকো।’ এই আশ্বাসটাই একজন তরুণ খেলোয়াড়কে মাঠে সেরাটা দেওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়।”
বিশ্বকাপের মাঝেই ক্লাব ফুটবলে নিকোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন তার বাবা। রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেও, নিকো নিজে আরও এক বছর সেস ফ্যাব্রিগাসের দল কোমোতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে আগামী মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি এই তরুণ।
পাবলো পাজ নিশ্চিত করেছেন, “রিয়াল মাদ্রিদ ওকে খুব করে চেয়েছিল। কিন্তু কোমোতে ও যে ভালোবাসা এবং খেলার সুযোগ পাচ্ছে, তা ওর বিকাশের জন্য দারুণ। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চুক্তিতে ‘বাই-ব্যাক’ (পুনরায় কিনে নেওয়ার) শর্ত থাকছে। ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় ও মাদ্রিদে ফিরতে পারবে। আপাতত কোমোতেই ও খুশি।”
বিশ্বকাপে ছেলের পা থেকে একটি গোল দেখতে চান বাবা পাবলো পাজ। তবে নিজের চাওয়ার চেয়ে দলের সাফল্যকেই ওপরে রাখছেন এই সাবেক ডিফেন্ডার, “নিকো একটা গোল পেলে বাবা হিসেবে আমার আনন্দের সীমা থাকবে না। তবে সবচেয়ে বড় কথা ও যেন খেলাটা উপভোগ করে এবং আর্জেন্টিনা যেন এবার বিশ্বকাপটা উঁচিয়ে ধরতে পারে।”