প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরোধীদলীয় নেতার আসন পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রধান বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫-এর চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) উক্ত এলাকা পরিদর্শন ও জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ৩নং গলির এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

পরে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সাথে নিয়ে আনন্দবাজার খাল পরিদর্শনসহ পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে পানির সংকট, গ্যাস সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং ভাঙা রাস্তার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এর পাশাপাশি বাজারের অবৈধ দখল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদক ও কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন। 

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সমগ্র জনপদের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব এলাকার সমস্যার সমাধানকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিরোধী দলের নেতার আবেদন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার নির্বাচনী এলাকা যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন জারি করেছেন। এই অনুশাসনের ভিত্তিতে তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ উক্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন। 

জাতীয় স্বার্থে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতার ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। "

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, পরিদর্শনে প্রাপ্ত সব তথ্য সংকলন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হবে।
প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবসময় আপনাদের জীবন ও সম্পদের পাহারাদার হিসেবে পাশে আছি। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, জনগণের দুর্ভোগের বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধান বের করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো সুনির্দিষ্ট আসনের নন, বরং তিনি সমগ্র দেশের ৩০০ আসনেরই নেতা।  প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সবকিছু কেবল সরকারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে আমাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস রেখে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত বক্তারা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সরকার এবং বিরোধী দলের এই সমন্বিত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি অনন্য ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান আসবে বলে সর্বস্তরের মানুষ আশা প্রকাশ করছেন।

পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে: জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে: জেনাঃ সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পি.এস.সি, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্দসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত