পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন ও সঠিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু, অঙ্গহানি হওয়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্ববেতনে বহাল রাখা, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও স্ববেতনে ছয় মাসের ছুটি, কোম্পানির অভ্যন্তরের অনিয়ম-দুর্নীতি দূরীকরণ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের কালিকাপুর পাকুড়িয়া এলাকায় এ বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা চলা এ কর্মসূচির কারণে পাবনার সঙ্গে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর ও ঈশ্বরদীর মধ্যে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়ায়েব, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সরকারি ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের যাতায়াত ফ্রি, খাবারের সময় ওভারটাইমে যুক্ত করা, অপবাদ দিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। এককালীন বোনাসসহ সরকারি সব নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা দিতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।’ এ সময় তিনি কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি জানান।
প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের সহকারী হিসাবরক্ষক আবু তাহের বলেন, ‘টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে জুলাই মাসের বেতন প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি, যারা এখনো বেতন পাননি তারা দ্রুতই বেতন পেয়ে যাবেন।’
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো আমরা জানার চেষ্টা করেছি। দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সড়ক অবরোধ হওয়ায় পাবনার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিক নেতাদের দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের এজিএম জাকির হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলন ও শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ কারণে আগামী এক সপ্তাহ (৭ দিন) কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। তারা দাবিগুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বেতন সমস্যার বিষয়টি শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সেটিও দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
