চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫০০ নারী শিক্ষার্থী ফ্রি মেডিকেল সেবা প্রদান করা হয়।
‘ছাত্রীদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প-২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের বোর্ড অব ডিরেক্টরস মিসেস আমেনা শাহীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি। এতে সঞ্চালনা করেন চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার (দ্বীপা) এবং সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বর, নির্বাহী সদস্য সালমান ফারসি সাকিব এবং আদনান শরীফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল চাকসুর উদ্যোগে যেভাবে সাড়া দিয়েছে, এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেটুকু মেডিকেল ফ্যাসিলিটিস আছে, তাতে অনেক কিছুই আমরা কাভার করতে পারি না। মেয়েদের বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা থাকে। সেসব সমাধানের জন্য এমন উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো সফিকুল ইসলাম বলেন, গতানুগতিক যে রাজনীতি তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার কাজ করে যাচ্ছে চাকসু। আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং লোকলজ্জার কারণে ছাত্রীরা বিভিন্ন রোগের কথা বলতে পারে না। চাকসুর এ আয়োজনের কারণে আমাদের ছাত্রীরা একদিকে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন। একাডেমিক এবং কো-কারিকুলাম এক্টিভিটির জন্য ছাত্রীদের সুস্থ থাকা জরুরি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক বলেন, আগামীতে আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে না হয়। আমরা ইতোমধ্যে চবির সাথে একটা চুক্তি করেছি, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট রয়েছে। এতে বিভিন্ন টেস্টের জন্য সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়েছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাতে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে যায়, সে আশাই ব্যাক্ত করছি।
চাকসু ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, আমরা চাকসু নির্বাচনের পর থেকে ৫-৬ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। চাকসুর এ চেয়ারগুলো অত্যন্ত আমানতের সাথে আমাদের মেইন্টেইন করতে হচ্ছে। এখানে চাইলেই আমরা যা ইচ্ছে করতে পারি না। স্যারদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, যাতে পরবর্তী বছর চাকসু নির্বাচন আবার হয়। দ্বিতীয়ত আমাদের মেডিকেল সেন্টারকে কিভাবে আরও আধুনিক করে সাজানো যায় সে বিষয়গুলি দেখার জন্য স্যারদের আমি অনুরোধ জানাবো।
চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে দূরে হওয়ায় তারা চাইলেই শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না। তাই, আমরা ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মাথায় রেখে ছাত্রীদের জন্য এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। ছাত্রীরা স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সমানেও ছাত্রীদের জন্য আরও কিছু সুন্দর সুন্দর আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছি।
চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা জানান, চাকসুর এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় এগারোশো ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তবে, রেজিস্ট্রেশনের বাইরেও আরও অসংখ্য ছাত্রী সেবা নিয়েছেন। ছাত্রীরা এই মেডিকেল ক্যাম্প থেকে চার ধরনের চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। সেগুলো হলো- গাইনোকলজি, মেডিসিন, ডার্মাটোলজি এবং নিউট্রিশন। ক্যাম্পটিতে সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলেছে। ১২ জন ডাক্তার ছাত্রদের সেবা দিয়েছেন।