ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল নিয়ে যা জানাল ফিফা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে পর্তুগিজদের জালে ক্রোয়াটরা বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এই বিতর্কিত ও সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফুটবল মহলে তুমুল আলোচনার ঝড় উঠলে অবশেষে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তারা নিশ্চিত করেছে, বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই অফসাইডের সঠিক সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে গনজালো রামোসের গোলে পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, যোগ করা সময়ের ত্রয়োদশ মিনিটে স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগিজ শিবির। ইভান পেরিসিচের ক্রসে জসকো গভার্দিওল স্লাইড করে বল জালে জড়ালে সমতার উল্লাসে মাতে ক্রোয়েশিয়া। মাঠের রেফারির চোখে প্রথমে এটি বৈধ গোল মনে হলেও, টিভি রিপ্লেতে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। রিপ্লেতে মনে হচ্ছিল ক্রোয়াট ফুটবলার ইগর মাতানোভিচের মাথা ছুঁয়ে বলটি পাসালিচের কাছে যায়নি, যা পাসালিচকে অনসাইডে রেখেছিল।

তবে মাঠের রেফারি এস্পেন এসকাসকে যখন ভিএআর মনিটর দেখার অনুরোধ করা হয়, তখন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’র ভেতরে থাকা চিপ। ক্রিকেটের 'স্নিকোমিটার' বা এজ নির্ধারণী প্রযুক্তির মতো, এই বলের ভেতরের প্রযুক্তিটি গ্রাফিক্সে একটি সূক্ষ্ম স্পাইক বা ‘হার্টবিট গ্রাফিক্স’ প্রদর্শন করে। যা প্রমাণ করে যে, মাতানোভিচের মাথায় বলটি সামান্য স্পর্শ করেছিল এবং সেই স্পর্শের কারণেই বিল্ড-আপের সময় পাসালিচ অফসাইড পজিশনে চলে যান। ফলে রেফারি গোলটি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে ফিফা এই সিদ্ধান্তের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, “বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডার ভেতরে থাকা কানেক্টেড বল টেকনোলজির উপাত্ত অনুযায়ী এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, গোলটি হওয়ার ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়ার ২০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচের স্পর্শ লেগেছিল। যার ফলে রেফারি নিখুঁতভাবে অফসাইড শনাক্ত করে গোলটি বাতিল করতে সক্ষম হন।” 

ফিফা আরও স্পষ্ট করে যে, এই বলের ভেতরে থাকা আইএমইউ সেন্সর এতটাই শক্তিশালী যে যেকোনো ধরণের অতি সূক্ষ্ম স্পর্শও মুহূর্তের মধ্যে ধরে ফেলতে পারে, যা সম্প্রচারের সময় দর্শকদের স্ক্রিনে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে দেখানো হয়। এই প্রযুক্তির কল্যাণে ম্যাচ অফিশিয়ালরা অভূতপূর্ব নির্ভুল তথ্য পাচ্ছেন, যা মাঠের যেকোনো জটিল সিদ্ধান্ত দ্রুত ও সঠিকভাবে নিতে সাহায্য করছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত