পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মস্পৃহা হারাচ্ছেন জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম

জনতা ব্যাংক পিএলসির ২০২১ সালে যোগদানকারী পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মস্পৃহা হারাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯৫ জন কর্মকর্তারা। বুধবার (৮ জুলাই) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০১৯ সালের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ২০২৬ সালে নিয়মিত পদোন্নতি হিসেবে সমন্বয় করায় ২০২৪ সালের কাট-অফ ডেট অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২১ সালে পাঁচটি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৮৫৮ জন কর্মকর্তা জনতা ব্যাংকে যোগ দেন। বিদ্যমান চাকরিবিধি অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৪৭ জন এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে ১ হাজার ৬৯৫ জন কর্মকর্তা অফিসার থেকে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন।

তারা জানান, ২০১৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে ১ হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারি পদে সিনিয়র অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে ২০২২ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অর্গানোগ্রামের বাইরে সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করে। এরপরও ২০২৪ সালে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ৭ হাজার ২১৫ জনকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে বিভিন্ন গ্রেডে পদোন্নতি পান ৫৭৯ জন, তবে অফিসার থেকে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় মাত্র পাঁচজনকে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সুপারনিউমেরারি পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিতকরণের আগে নতুন পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ ও ২০২৪ সালের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোট ১ হাজার ৭৫ জন কর্মকর্তাকে ধাপে ধাপে নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৩ মার্চ ৪২৬ জন সিনিয়র অফিসারকে নিয়মিত করা হয়েছে।

পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চাকরিবিধি, পদোন্নতি নীতিমালা বা অর্গানোগ্রামে সুপারনিউমেরারি পদ নিয়মিত করার কোনো বিধান নেই। তাই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়মিত পদোন্নতি আটকে রাখা আইনসংগত নয়। এছাড়া ২০২১ সালে যোগদানকারী কর্মকর্তাদের ওপর ২০১৯ সালের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির সমন্বয়ের দায় চাপানোও অযৌক্তিক।

স্মারকলিপিতে তারা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের কাট-অফ ডেট অনুযায়ী শূন্য পদে নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া, ২০২৪ সালের পদোন্নতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ২০২৫ সালের কাট-অফ ডেট অনুযায়ী পদোন্নতি না দেওয়া, ২০১৯ সালের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি ২০২৬ সালে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত না করা এবং ৩ মার্চ নিয়মিত হওয়া ৪২৬টি পদকে ২০২৪ সালের কাট-অফ ডেটের পদোন্নতির শূন্য পদ হিসেবে গণ্য করে দ্রুত পদোন্নতি কার্যকর করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত