বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলে মধুপুর বনাঞ্চলে অভিনব উদ্যোগ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চল অংশে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। পঁচিশ মাইল এলাকা থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত নির্মিত এসব করিডোরের মাধ্যমে সড়ক পারাপারের সময় যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্র জানায়, জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন মহাসড়কের দুই পাশে পাঁচটি স্থানে সুউচ্চ গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে দড়ি সংযুক্ত করে এসব রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালি, সিভেটসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণী মাটিতে না নেমেই এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধুপুর বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য সংগ্রহ কিংবা আবাসস্থল পরিবর্তনের সময় অনেক প্রাণী সড়ক পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। নতুন এই রোপওয়ে করিডোর চালুর ফলে সেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের আরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একই ধরনের করিডোর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্যপ্রাণীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন বনপ্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। তিনি জানান, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত