দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায় শেষে বিদায়ের ক্ষণগণনা শুরু করেছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। তার হাত ধরেই লেস ব্লুসরা এখন টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায়, যা এর আগে কেবল পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলগুলো অর্জন করতে পেরেছিল।
ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচকে ইতিমধ্যেই অনেকেই দেখছেন ফাইনালে আগের ফাইনাল হিসেবে। এদিকে ডালাসের মাঠে লড়াইয়ে নামার আগে ফরাসি কোচও জানিয়ে দিলেন, এটি ফুটবল বিশ্বের ‘স্মরণীয়’ এক দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে নামা ফ্রান্সের জন্য এবারের স্প্যানিশ বাধাটি বেশ কঠিন, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগে অজেয়।
অতীতের পরাজয় নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ দেশম। বর্তমান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফরাসি কোচ সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘অতীত এখন অতীতই। স্পেন অতীতে জিতেছে ঠিকই, কিন্তু আমি তাকিয়ে আছি সামনের দিকে। আমরা এখন অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছি এবং আমাদের লক্ষ্য একটাই ফাইনাল নিশ্চিত করা।’
স্পেনের রক্ষণের প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি এটি একটি দারুণ উপভোগ্য ম্যাচ হতে যাচ্ছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আমি উভয়েই জানি কীভাবে রক্ষণ সামলাতে হয়। তবে দুই দলের আক্রমণভাগের যে গুণমান রয়েছে, তাতে আশা করছি ফুটবল বিশ্ব একটি স্মরণীয় ম্যাচ দেখতে চলেছে।’
তবে ফরাসি কোচের ‘ফেভারিট’ তকমা দেওয়ার কৌশলী মন্তব্যটি খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং তিনি ফরাসিদের রাখলেন পাল্টা চাপে। এ নিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘এটি কোনো অর্থ বহন করে না। আমরা দুটি দারুণ জাতীয় দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছি। ফেভারিট হওয়া বা না হওয়া আমাদের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি করে না। আমাদের ওপর সেই চাপ এমনিতেই রয়েছে, কারণ আমরা আমাদের দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’
এবারের আসরে স্পেন রক্ষণভাগে দেখিয়েছে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। এখন পর্যন্ত কেবল একটি গোল হজম করেছে তারা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের রয়েছে অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা দেশম এখন কোচ হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান। ডালাসের মঞ্চে একদিকে দেশমের মাস্টারক্লাস কৌশল, অন্যদিকে দে লা ফুয়েন্তের তরুণ ও লড়াকু স্প্যানিশ স্কোয়াড। ফুটবল প্রেমীরা এখন অপেক্ষায়, মঙ্গলবারের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কে?
বর্ণবাদী মন্তব্য করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ধুয়ে দিলেন ইয়ামাল