গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের খবর ভিত্তিহীন : আইনজীবী

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন দাবি করেন তিনি। 

এ আইনজীবী বলেন, 'ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে) থাকাকালে তার পক্ষে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মামলাটি এখনো হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে বিচারাধীন এবং বিভিন্ন সময়ে আমরা নিজেরাই শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করেছি।'

তিনি বলেন, 'গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে—এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। অথচ বিষয়টি কর ফাঁকির মামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।'

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, '২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির ভিত্তিতে পাওয়া মুনাফার ওপর গ্রামীণ কল্যাণ ইতোমধ্যে ১৫ শতাংশ হারে উৎস কর বা ট্যাক্স অ্যাট সোর্স পরিশোধ করেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে একজন জয়েন্ট কমিশনার তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে বেআইনিভাবে পুনরায় এই ৬৬৬ কোটি টাকা কর আরোপ করেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিট মামলা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার পরই গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান কোম্পানি আইনের ২৮ ধারায় পরিচালিত অলাভজনক সংস্থা, যার কোনও ব্যক্তিমালিকানা নেই। তাই কর ফাঁকি বা মওকুফের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরগুলো সম্পূর্ণ গুজব ও বিভ্রান্তিকর।'

আইনজীবী বলেন, 'তিনি (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) একসময় গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে এটি পরিচালনা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত