বন্যা, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের পাঁচমাথা মোড়ে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, জিআরপি মোড় ও সিনেমা রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পাঁচমাথা মোড়ে এসে শেষ হয়। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় দ্রুত তা শেষ হয়ে যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে।
তারা আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা দুর্যোগের কারণে অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রশ্নপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ারও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘তুমি কে আমি কে, পোল্ট্রি পোল্ট্রি কে বলেছে, কে বলেছে, মিলন মিলন’, ‘এক, দুই, তিন, চার- মিলন তুই গদি ছাড়’ প্রভৃতি স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, ‘আমরা সৈয়দপুরে থাকায় হয়তো বন্যার ভয়াবহতা সরাসরি অনুভব করতে পারিনি। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আমাদেরও নাড়া দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। আমরা এমন একজন শিক্ষামন্ত্রী চাই, যিনি শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করবেন। তাই আমাদের দাবি- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।’
তিনি জানান, দাবি আদায়ে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শহরের সিএসডি মোড়ে পরবর্তী কর্মসূচি পালন করা হবে।
আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করব এবং বন্যাকবলিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব। একই সঙ্গে এই আন্দোলন যেন কোনোভাবেই অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও আমরা সচেতন।