পৌর এলাকায় দৃষ্টিনন্দন সড়কের বদলে বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের  একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর ওখানে দুই বাঁশের সাঁকোই চলাচলের একমাত্র প্রধান ভরসা। এ দুর্ভোগ কষ্ট দুই মাস ধরে চললেও কেউ তা সমাধানে এগিয়ে আসেনি। সড়ক মেরামত বা নিরাপদ একটি সাঁকোও কেউ করে দেয়নি। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় শহুরে এই মানুষদের চলাচলের মাধ্যম এই সাঁকোটি।

এই এলাকার আশপাশে অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারাখানার শ্রমিকরা চলাচল করে এ সাঁকো দিয়ে। আর ঝুঁকি, ভয় আর ভোগান্তি নিয়ে দিন পার হচ্ছে তাদের।

শ্রীপুর পৌরশহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দোখলা বাজার এলাকা দক্ষিণে এ বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে দিনভর মানুষের কষ্ট করে চলাচল করে। এটি নতুনবাজার থেকে দোখলা বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ। এ নিয়ে মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ আর হতাশা কাজ করছে।

তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। তবুও নিরুপায় হয়ে এটি ব্যবহার করতেই হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানায়, কারখানার শ্রমিকরা সড়কের একপাশে ভাঙা অংশে স্থাপন করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন নিত্যদিন। বিশেষ করে নারী পথচারিরা অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। অনেকেই আবার সময় বাঁচাতে জুতা হাতে নিয়ে বর্জ্যমিশ্রিত পানি মাড়িয়ে ভাঙা অংশ পার হয়ে চলে যান। সড়কটির ভাঙার কারণে যান চলাচল বন্ধ আছে। অনেকে না জেনে চলে এসে ভোগান্তিতে পড়েন।

তারা জানায়, লোকাল বাসিন্দা ও কারখানার শ্রমিকদের নিজস্ব (অর্থ ব্যয়) উদ্যোগে ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে  সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সাঁকোটি আরও পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পৌর এলাকার ভেতরে দৃষ্টিনন্দন সড়ক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে।

এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণির মানুষ। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লবলং খালে বিষাক্ত পানি বাধা পেয়ে এ এলাকা দিয়ে চলে আসে। ফলে বাঁশের সাঁকোই এখন সবার ভরসা।

প্রাইভেটকার চালক আজাহার আলী জানান, অনেক অনেকটা পথ এসে জানতে পারলাম রাস্তা ভেঙে অচল হয়ে পড়ে আছে। এরপর আর উপায় ছিল না। তাই গাড়ি রেখে হেঁটে গন্ত্যবে যেতে হয়েছে।

পারফেটি চকলেট কারখানার কর্মী মোসলেম উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন দুইবার এই ভাঙা অংশ দিয়ে (বাঁশের সাঁকা হয়ে) যেতে হয়। সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে, বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সংকট বাড়ে। দুটি বাঁশ দিয়ে তৈরি আটসাট বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলা ঝুঁকিপূর্ণ। 

একই কারখানার কর্মী সোহেল রানা জানান, এ নড়বড়ে বাঁশের সাঁকে ছাড়া বিকল্প যাতায়াত করার সুযোগ নেই। এই সাঁকো ভেঙে গেলে কি হবে তা নিয়ে শঙ্কায় থাকি আমরা।

পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, পৌর এলাকায় এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেঙে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু অব্যবস্থাপনারই চিত্র নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শ্রীপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশল মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, নতুনবাজার থেকে দোখলা বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইউনিব্লকের মাধ্যমে সড়কটি উন্নয়ন করা হবে। ভারি বৃষ্টির কারণে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমলে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীপুর পৌরসভার প্রসাশক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। মানুষ যেন সহজে চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত