বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সিরিজকে সামনে রেখে ক্রীড়া কূটনীতির ওপর ভরসা করছে সরকার। দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার বিষয়। বিশ্ব ক্রিকেটেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারাও যোগাযোগ রাখছে। আমরা আশা করছি, সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে।
তিনি বলেন, ভারতের এই সফর হলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমবে। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায়, ২০২৫ সালে স্থগিত হওয়া ভারত সফরটি ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কথা।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে ২০২৫ সালের সফরটি স্থগিত হয়েছিল। একই সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারত আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেও বাংলাদেশ দল সরে দাঁড়ায়। এতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তবে সম্প্রতি বিসিবি সিরিজের টেলিভিশন ও মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করায় সফর আয়োজনের সম্ভাবনা আবার জোরালো হয়। পাশাপাশি আগস্টে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি না থাকায় সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরের সুযোগও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিসিবি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভারতীয় দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে এর মধ্যেই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, দরপত্র আহ্বানের পর বিসিবি হঠাৎ করেই মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ।
এদিকে, ভারত আয়োজিত বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর আগে ঘটনাটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা যাচাই করতেও পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়।