ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পূর্বসূরি সেপ ব্ল্যাটার এবং লা লিগার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে এবং ইনফান্তিনোকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার জন্য যৌথভাবে দাবি তুলেছেন তারা।
গত রবিবার স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও তেবাসের মতে, ইনফেস্তিনো ঘরোয়া লিগগুলোর চেয়ে বিশ্বকাপকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে "ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছেন"। লা লিগা প্রধানের স্পষ্ট বক্তব্য, "ইনফান্তিনোর সময় শেষ হয়ে গেছে।" অন্যদিকে ব্ল্যাটার বলেছেন, "সমর্থক, খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর উচিত ফুটবলকে উদ্ধার করে নতুন নেতৃত্বের অধীনে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।"
৬৪ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তাব ও ঘরোয়া লিগের স্বার্থ রক্ষা
২০৩০ বিশ্বকাপকে ৪৮ থেকে ৬৪ দলে উন্নীত করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর অতিরিক্ত আগ্রহের চরম বিরোধিতা করেছেন হাভিয়ের তেবাস। ইতালির সাময়িকী লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-কে তিনি বলেন,
"জাতীয় দলের সংখ্যা বৃদ্ধি কোনো যুক্তি যুক্ত হতে পারে না। ফুটবল শিল্প কেবল বিশ্বকাপকেন্দ্রিক নয়। ঘরোয়া লিগগুলোই মূলত ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে। মাত্র ৪০ দিনের একটি ইভেন্টের জন্য তারা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা এই শিল্পকে ধ্বংস করছে। আমাদের এখন কম জাতীয় দল এবং ফুটবলকে সব স্তরে রক্ষা করা প্রয়োজন।"
তেবাস মনে করেন ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত, তবে বর্তমান ব্যবস্থায় তা কঠিন। তিনি যোগ করেন, "পুরো ব্যবস্থাটি গোড়া থেকেই পচা। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় না কারণ কেউ হেরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াতে চায় না।"
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বালোগুনের লাল কার্ড কাণ্ড
ইনফান্তিনোর ১০ বছরের শাসনামলে এটিই সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি টেলিফোনের পর ইনফান্তিনোর হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে তেবাস বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াটা মারাত্মক একটি ঘটনা ছিল। বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে বিদায় করে দিয়েছিল বলেই ফিফা বেঁচে গেছে, নয়তো এই কেলেঙ্কারির কারণে ইনফান্তিনোকে চাকরি হারাতে হতো। এগুলো আসলে হিমশৈলের চূড়া মাত্র।"
একই প্রসঙ্গে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ সেপ ব্ল্যাটার লিখেছেন, "বিশ্বকাপটি সঠিক চ্যাম্পিয়নদের দিয়েই শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফির পথচলায় টুর্নামেন্টটি তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। রাজনীতিকে কখনো খেলার ওপর প্রভাব ফেলতে দেওয়া উচিত নয়।"
পানির বিরতি নাকি বিজ্ঞাপনের চক্রান্ত?
ম্যাচ চলাকালীন নির্ধারিত সময় বাড়ানো এবং 'হাইড্রেশন ব্রেক' বা পানির বিরতি নিয়েও ফিফাকে একহাত নিয়েছেন তেবাস। তিনি অভিযোগ করেন:
"ফিফা তাদের নিজস্ব স্বার্থের জন্য সবকিছু সাজায়, ফুটবলের স্বার্থে নয়। হাফ-টাইমের বিরতি ২৭ মিনিট করার প্রয়োজন হলে তারা সেটাই করবে। পানির বিরতি আসলে একটা মিথ্যা কথা। ড্যালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস বা আটলান্টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে বসে গ্যালারিতে আমাকে সোয়েটার পরতে হয়েছিল। সেখানে গরমের জন্য নয়, বরং বিজ্ঞাপনের প্রচার করার জন্য এই বিরতি দেওয়া হয়েছিল।"
বিশ্বকাপ জিতে টমেটো উপহার পেলেন রুইজ-গাভি