বিশ্বকাপ জিতে টমেটো উপহার পেলেন রুইজ-গাভি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

বিশ্বকাপ জেতার পর ফুটবলারদের রাজকীয় সংবর্ধনা বা কোটি টাকার অর্থ পুরস্কার পাওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। তবে স্পেনের দুই মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ ও তরুণ সেনসেশন গাভি নিজ শহরে ফিরে যা পেলেন, তা রীতিমতো অবাক করার মতো! নগদ অর্থ বা বিলাসবহুল কোনো উপহার নয়, বরং বিশ্বজয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শরীরের ওজনের সমপরিমাণ লাল টমেটো!

গত রবিবার রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ঘরে তোলে স্পেন। ফাইনাল শেষে মাদ্রিদের রাজপথে প্রায় বিশ লাখ মানুষের উল্লাস আর বরণের পর রুইজ ও গাভি ফিরে যান তাদের শেকড় দক্ষিণ স্পেনের ছোট্ট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাংকায়। মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজারের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই শহরটি তাদের দুই বীরকে বরণ করতে বেছে নেয় একদম অনন্য এক স্থানীয় ঐতিহ্য।

মঙ্গলবারের এক বর্ণিল ও জমকালো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের মঞ্চেই দাঁড় করানো হয় ডিজিটাল স্কেল। সবার চোখের সামনে ওজন মাপা হয় ৩০ বছর বয়সী রুইজ ও ২১ বছর বয়সী গাভির। স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে ঠিক তাঁদের শরীরের ওজনের সমান প্রায় ১৪০ কেজি তাজা ‘বোমবন কোলরাও’ জাতের টমেটো উপহার দেওয়া হয় দুই তারকার হাতে। লস পালাসিওসের শাকসবজির বাগানের এই বিশেষ টমেটো তাদের কাছে গর্বের প্রতীক। এর আগে ১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ জয়ের পরও দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার জেসুস নাভাসকেও একইভাবে টমেটো উপহার দিয়েছিল এই শহর।

তবে কেবল টমেটো প্রাপ্তিই নয়, নিজ শহরের মানুষের কাছ থেকে আরও অনেক বড় সম্মান পেয়েছেন এই দুই তারকা। লস পালাসিওস শহরের দুটি পরিচিত স্টেডিয়াম, মারিসমাস ও সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়ামের নাম বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয়েছে যথাক্রমে ‘ফাবিয়ান রুইজ’ ও ‘পাবলো পায়েজ গাভিরা গাভি’। এছাড়া শহরের হুয়ান হোসে ভাকুয়েরো অ্যাভিনিউতে ফাবিয়ান রুইজ ও গাভির পাশাপাশি ২০০১ সালের চ্যাম্পিয়ন জেসুস নাভাসকে অমর করে রাখতে একটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করবে সিটি কাউন্সিল।

বিশ্বমঞ্চের সোনালী ট্রফি জয়ের পর এমন ব্যতিক্রমী ও ভালোবাসায় মোড়ানো সংবর্ধনা নিশ্চিতভাবেই রুইজ ও গাভির ফুটবল জীবনের অন্যতম সেরা এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত